সনাতন পত্র
আন্তর্জাতিক অর্থনীতি
মার্কিন শুল্কনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে বুধবার এশীয় লেনদেনে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক শুল্ক পদক্ষেপ বাতিল করার রায় দেওয়ার পর বাজারে নীতিগত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৩৪ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৫,১৯৮ ডলার। এর আগের সেশনে স্বর্ণ তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। তবে বিনিয়োগকারীদের আংশিক মুনাফা গ্রহণের কারণে এক পর্যায়ে দাম ১ শতাংশের বেশি কমে যায়।
এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৫,২১৭.৩০ ডলারে দাঁড়ায়। ফিউচার বাজারেও স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়তে দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং চীনা বাজারে লেনদেন পুনরায় শুরু হওয়া স্বর্ণের প্রতি চাহিদা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে অবস্থান নিচ্ছেন।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, চীনা বাজারের সক্রিয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অস্থিরতা স্বর্ণ ও আংশিকভাবে রুপার বাজারে সমর্থন জুগিয়েছে। তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশ অস্থায়ী বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক কার্যকর করেছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর শুল্কনীতি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের দুই কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার পরিবর্তনের বিষয়ে তেমন আগ্রহ নেই। তবে বাজার বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি বছরে ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে তিন দফা সুদহার কমার সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
সাধারণত সুদের হার কমার সম্ভাবনা থাকলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে, কারণ এতে বিকল্প বিনিয়োগের রিটার্ন কমে যেতে পারে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯.৯২ ডলারে পৌঁছেছে, যা তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ।
স্পট প্লাটিনাম ৩.৬ শতাংশ বেড়ে ২,২৪৪.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ৫ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ অবস্থান। প্যালাডিয়াম ২.৪ শতাংশ বেড়ে তিন সপ্তাহের উচ্চতায় ১,৮১১.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আর্থিক নীতিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থানের দিকে নজর রাখছেন।
সামগ্রিকভাবে, মার্কিন শুল্কনীতি ও সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্যের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এশীয় লেনদেনে স্বর্ণের সাম্প্রতিক উত্থান সেই প্রভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাবেই এ সমন্বয় আনা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা, মান ও কারিগরি জটিলতার ওপর ভিত্তি করে মজুরি বাড়তে বা কমতে পারে।
অর্থাৎ, একজন ক্রেতা যখন স্বর্ণালংকার কিনবেন, তখন ঘোষিত দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ভ্যাট ও মজুরি যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত মূল্য আরও বাড়তে পারে। ফলে প্রকৃত ক্রয়মূল্য তালিকাভুক্ত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ দফা কমানো হয়েছে। ঘন ঘন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়া-কমার সঙ্গে দেশের বাজারের দামের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও এতে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিয়ের মৌসুম ও উৎসবকেন্দ্রিক চাহিদা থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা এখন অপেক্ষাকৃত কম ক্যারেটের স্বর্ণ বা হালকা ওজনের গহনার দিকে ঝুঁকছেন। এতে মোট বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমলেও লেনদেন অব্যাহত রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাজারেও ঘন ঘন সমন্বয় চলতে পারে। ডলার দর, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি এবং আমদানি ব্যয় পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন এ মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের জন্য বাড়তি ব্যয় সৃষ্টি হলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৩৪ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৫,১৯৮ ডলার। এর আগের সেশনে স্বর্ণ তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। তবে বিনিয়োগকারীদের আংশিক মুনাফা গ্রহণের কারণে এক পর্যায়ে দাম ১ শতাংশের বেশি কমে যায়।
এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৫,২১৭.৩০ ডলারে দাঁড়ায়। ফিউচার বাজারেও স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়তে দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং চীনা বাজারে লেনদেন পুনরায় শুরু হওয়া স্বর্ণের প্রতি চাহিদা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে অবস্থান নিচ্ছেন।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, চীনা বাজারের সক্রিয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অস্থিরতা স্বর্ণ ও আংশিকভাবে রুপার বাজারে সমর্থন জুগিয়েছে। তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশ অস্থায়ী বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক কার্যকর করেছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর শুল্কনীতি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের দুই কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার পরিবর্তনের বিষয়ে তেমন আগ্রহ নেই। তবে বাজার বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি বছরে ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে তিন দফা সুদহার কমার সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
সাধারণত সুদের হার কমার সম্ভাবনা থাকলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে, কারণ এতে বিকল্প বিনিয়োগের রিটার্ন কমে যেতে পারে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯.৯২ ডলারে পৌঁছেছে, যা তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ।
স্পট প্লাটিনাম ৩.৬ শতাংশ বেড়ে ২,২৪৪.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ৫ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ অবস্থান। প্যালাডিয়াম ২.৪ শতাংশ বেড়ে তিন সপ্তাহের উচ্চতায় ১,৮১১.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আর্থিক নীতিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থানের দিকে নজর রাখছেন।
সামগ্রিকভাবে, মার্কিন শুল্কনীতি ও সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্যের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এশীয় লেনদেনে স্বর্ণের সাম্প্রতিক উত্থান সেই প্রভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাবেই এ সমন্বয় আনা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা, মান ও কারিগরি জটিলতার ওপর ভিত্তি করে মজুরি বাড়তে বা কমতে পারে।
অর্থাৎ, একজন ক্রেতা যখন স্বর্ণালংকার কিনবেন, তখন ঘোষিত দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ভ্যাট ও মজুরি যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত মূল্য আরও বাড়তে পারে। ফলে প্রকৃত ক্রয়মূল্য তালিকাভুক্ত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ দফা কমানো হয়েছে। ঘন ঘন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়া-কমার সঙ্গে দেশের বাজারের দামের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও এতে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিয়ের মৌসুম ও উৎসবকেন্দ্রিক চাহিদা থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা এখন অপেক্ষাকৃত কম ক্যারেটের স্বর্ণ বা হালকা ওজনের গহনার দিকে ঝুঁকছেন। এতে মোট বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমলেও লেনদেন অব্যাহত রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাজারেও ঘন ঘন সমন্বয় চলতে পারে। ডলার দর, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি এবং আমদানি ব্যয় পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন এ মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের জন্য বাড়তি ব্যয় সৃষ্টি হলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
...
